ইলিয়াস কামাল বাবু, সন্দ্বীপ প্রতিনিধি: সন্দ্বীপে বিএনপি'র সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা'র বাড়ী থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা বারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সন্দ্বীপ থানা পুলিশ জানায়- শুক্রবার রাতে রহমতপুর কেঞ্জাতলী বাজারে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলা ও লুটপাটের প্রেক্ষিতে পুলিশী অভিযানের এক পর্যায়ে ভোর ৫ টার দিকে তালতলীস্থ এমপি'র বাড়ীতে হানা দিয়ে এ সব অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় ৮/১০ জন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলোর মধ্যে-১টি কাটা বন্দুক, ১১ রাউন্ড তাজা গুলি, ২টি কিরিচ, ১ টি চাপাতি, ১ টি বাঁকা রড, ৯ টি রকেট লেজার (প্যারাসুট প্লেয়ার) ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন রয়েছে। পুলিশ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-এমপি'র ২ ভাতিজা আকিজ (৩০), নোমান (২২) ও পৌরসভার বাসিন্দা রিদওয়ান (৩০)। এদের মধ্যে আকিজ ও রিদওয়ান আহত থাকায় পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে- শুক্রবার সন্ধ্যার পরে রহমতপুরের পার্শ্ববর্তী আজিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৩ নেতার উপর বিএনপি'র চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা স্থানীয় মালেক ড্রাইভারের মুদি দোকানের সামনে হামলা চালিয়ে অপহরণের চেষ্টা করলে জনগনের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। খবর পেয়ে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। হামলায় আহত ৩ জন হচ্ছেন- ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মো: আকরাম(২৫), সেক্রেটারী মো: হান্নান (২২) ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ফরহাদ (২৩)। পুলিশ জানায়, আজিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন রিপন এবং তার ভাই আলতাফের নেতৃত্বে বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উপর এ হামলা চালায়। অপর দিকে রাত ১১ টার দিকে তালতলী এলাকা থেকে ২৫/৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল বিএনপি'র সমর্থনে মিছিল নিয়ে রহমতপুর কেঞ্জাতলী বাজারে গিয়ে ১ টি ক্লাব ঘর সহ ২০/৩০ টি দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় কেঞ্জাতলীর একটি দোকান থেকে সাংবাদিক ইলিয়াস কামাল বাবু'র ছোট ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি নিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান মামুনের সহযোগীতায় তালতলী বাজার থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় বেশ ক'রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায় বলে এলাকাবাসী জানায়। ঘটনার পরপরই সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ কেঞ্জাতলী বাজার পরিদর্শন করেন। এ দিকে রাতভর পুলিশি অভিযানের এক পর্যায়ে বিএনপি সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র সংঘবদ্ব হওয়ায় গোপন খবর পেয়ে এসআই আক্কাস আলী, মোহন লাল, দেলোয়ার হোসেন, হেলাল উদ্দীন ও আজহারের নেতৃত্বে বিএনপি'র এমপি মোস্তফা কামাল পাশা'র বৈঠক খানায় হানা দেয়। পুলিশি উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ফেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানায়। সন্দ্বীপ থানার ওসি রেফায়েত উল্যা চৌধুরী জানান-অস্ত্র, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে বিএনপি নেতা ও এমপি'র ভাতিজা চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মামুন বলেন-আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে আমার নিজ বাড়ীতে আমার ছোট ভাইদেরকে মারধর করে পরে পুলিশ তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। বিএনপি সাংসদ মোস্তফা কামাল পাশার বাড়ী থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি ঘটনার সময় বাড়ীতে ছিলাম না। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারের স্থান আমার বসত ঘর থেকে দুরে। পূর্বেও আমার বিরুদ্ধে এ রকম ষড়যন্ত্র হয়েছে। এ দিকে শনিবার সকালে পূর্বের রাতে সংঘঠিত সন্ত্রাসীদের হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে রহমতপুর কেঞ্জাতলী এলাকার ব্যবসায়ীরা ভোর থেকে দোকান পাট বন্ধ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। এ সময় পৌর মেয়র জাফর উল্যা টিটু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দোকানপাট পরিদর্শনে গেলে ব্যবসায়ীরা বারবার তাদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত: হামলা চালানো হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে পৌর মেয়র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করলে সকাল ১০ টায় ব্যবসায়ীরা পুনরায় দোকান পাট চালু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে দাবী করলেও এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
