রামগঞ্জে সওজের শত কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করা হয়েছে। সংশিল্গষ্ট দফতর কর্তৃক ইজারা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করে বহুতল ভবন, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসস্থল নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। এতে বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচলে চরম অসুবিধাসহ পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে উপজেলাব্যাপী একটি পৌরসভাসহ ১০ ইউনিয়নেই সরকারের ডিজিটালাইজড মাস্টার পল্গ্যান ভেস্তে যেতে বসেছে।
ফলে রামগঞ্জব্যাপী সব জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলায় সড়ক ও জনপথের আওতাধীন ১১টি সড়কের মধ্যে রামগঞ্জ-বেগমগঞ্জ সড়কের ৮ কি.মি., মুদাফ্ফরগঞ্জ থেকে চিতোষী সড়কের ৯ কি.মি., হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ১৫ কি.মি., পানিয়ালা-দশঘরিয়া সড়কের ৮ কি.মি., সর্দারবাড়ী-খায়েরহাট সড়কের ১০ কি.মি., লক্ষ্মীপুর-দালাল বাজার সড়কের ৮ কি.মি.সহ মোট ১১০ কি.মি. সড়ক রয়েছে। ওই সড়কগুলোর উভয় পাশেই রয়েছে ৩০ ফুট করে সড়ক ও জনপথের নির্ধারিত সম্পত্তি। কিন্তু এ সম্পত্তি নিয়মিত দেখভাল না করায় ৭০ দশকের পর থেকে রামগঞ্জে সড়ক ও জনপথের ওই পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলো জবরদখল শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হওয়ায় ৮০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে দখলবাজরা পুরোদমে জবরদখল শুরু করে। অবশেষে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রামগঞ্জব্যাপী প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু বিধিবাম তত্ত্বাবধায়ক পটপরিবর্তনের পর রামগঞ্জব্যাপী শুরু হয় নতুন উদ্যোমে জবরদখল প্রক্রিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে রামগঞ্জ-বেগমগঞ্জ সড়কের বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে শুরু করে বালুয়া চৌমুহনী, হানুবাইশ, বড়বাড়ী, আলীপুর, পচা মার্কেট, কচুয়া, মুন্সীরাস্তা, ১১নং পোলের গোড়া, দশঘরিয়া বাজার, রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজার অংশ থেকে মালেগো বাড়ির দরজা, কাউলীডাঙ্গা, শেখপুরা, খলিফা দরজা, কাঠাখালী, রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর সড়কের রামগঞ্জ দক্ষিণ বাজার অংশ থেকে শ্রীপুর, অভিরামপুর, নরিমপুর, পদ্মা বাজার, ফতেহপুর, ঐদ্ধারা দীঘির পাড়, পানপাড়া, মীরগঞ্জ বাজার, চিতোষী সড়কের সোনাপুর অংশ থেকে কলচমা, সুধারাম, কেথুড়ী, রাজারামপুর, নোয়াপাড়া, আকারতমা, কমার রোড, পানিয়ালা-দশঘরিয়া সড়কের পানিয়ালা বাজার, দুধরাজপুর, টিউরী বাজার, লক্ষ্মীধরপাড়া, বাইসুন্দুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও জনপথের সম্পত্তি নির্বিচারে জবরদখল হয়েছে।
এ ব্যাপারে রামগঞ্জে দায়িত্বরত সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফয়েজ আহম্মদ জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার কোনো বিধান নেই। যারা এ ধরনের জবরদখল প্রক্রিয়া চালায়, নিয়ম অনুযায়ী তাদের ৭ দিন সময় দিয়ে নোটিশ করা হয়। এর মধ্যে স্থাপনা না সরালে দ্বিতীয়বার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি।