লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর উপকূলীয় অভয়াশ্রমে গতকাল
বৃহস্পতিবার থেকে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে চলতি মাসেই ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও শেষ করবে
মৎস্য অধিদফতর। মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী মৎস্য অধিদফতর চলতি
মার্চ ও আগামী এপ্রিল মাসে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মূলত
ইলিশ মাছ রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে মাছ কেনাবেচা,
মজুদ ও পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, মাছ ধরা
নিষিদ্ধ অঞ্চলের আওতায় থাকবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার
থেকে চাঁদপুর জেলার ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০
কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর চরইলিশা থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা
নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার এবং ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী
জেলার চররুস্তম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা।এদিকে মাছ ধরা
বন্ধ থাকার কারণে ইলিশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলে
পরিবারে 'জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং গবেষণা প্রকল্প'
এর আওতায় মৎস্য অধিদফতর পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাবে। এর আওতায় জেলে
পরিবারের মধ্যে চার মাসের জন্য ৩০ কেজি করে চাল ভিজিএফ সহায়তা, জাল তৈরির
জন্য সুতা, বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার
জন্য নগদ ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এ
কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।জেলা মৎস্য
কর্মকর্তা মোঃ মোশারেফ হোসেন জানান, মার্চ ও এপ্রিলে মাছ না ধরার জন্য
সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইল কোর্ট
পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে
সকাল ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ মিটার
কারেন্ট জাল আটক করেছে পুলিশ। তবে কেউ আটক হয়নি। চাঁদপুর নৌ-পুলিশ
ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক শেখ সালাউদ্দিন জানান, আটক জাল পরে পুড়িয়ে
ফেলা হবে।
মেঘনার অভয়াশ্রমে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ
