আজ ভ্যালেন্টাইন ডে : ভালবাসায় প্রতিটি মানুষের অন্তর!

আজ বিশ্ব ভালোবাস দিবস। হ্যাপি ভেলেন্টাইন ডে...! প্রেম-ভালোবাসা চিরন্তন শাশ্বত। সেই আদিম গুহাবাসী থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক তরুণ-তরুণী হৃদয়ে উচ্ছ্বাস আবেগে অতি সহজেই ফুটে ওঠে ভালোবাসার লাল গোলাপ। যুগের পরিবর্তনে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে পরিবর্তন। ভ্যালেইনটাইন ডে এনে দিয়েছে সেই পরিবর্তন-পরিবর্ধন। প্রিয়জনকে কাছে পাবার কিংবা মনের কথা বলার একটি বিশেষ দিন। বিস্তারিত লিখেছেন ফখরুল মাসুদ-
প্রেম ভালবাসার বিষয়টি অনেকটাই ভাব বা চেতনার ব্যাপার। প্রথমে শুরু হয় দেখা, সেখান থেকে আবেগ সৃষ্টি, অতঃপর প্রেম। চোখের দেখার পাশাপাশি মস্তিস্কের চিন্তা-ভাবনা, বন্ধুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবোধ, এসব কিছু মিলেই মানব হৃদয়ে সৃষ্টি হয় প্রেম বা ভালবাসা। প্রেম বড়ই রহস্যময়। এ প্রেম ভালবাসা নিয়ে রচনা, গান, কবিতা, উপন্যাস তৈরি
হয়েছে। আর তৈরি হয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, আরও কত কি! ভালবাসা সম্পর্কিত সর্বাধুনিক সংজ্ঞটি হচ্ছে �হৃদয়ের স্বচ্ছ সরোবরে ভাবের তরণীকে প্রসূটিত করাকেই বলে ভালবাসা।�
প্রা
চীন ইতালির রোম শহরে মেয়েরা একটি বিশেষ দিনে ভালবাসার কাব্য লিখে জমা করত বিশেষ ধরনের একটি মাটির পাত্রে। সে পাত্র থেকে সূর্যাস্তের পূর্বেই বিবাহযোগ্য যুবকদের একটি পত্র তুলতে হতো। ১৪ ফেব্র�য়ারি বিবাহের এ অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হতো। দিন ও কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসা দিবস নিয়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শ্র�তিমধুর গল্প। এসব শ্র�তিমধুর গল্পের অধিকাংশই ভিত্তিহীন।
প্রচলিত গল্পের আলোকে জানা যায়, ২০০ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে ইতালির রোম শহরে সেন্ট ভেলেন্টাইন নামে দু�জন স্বঘোষিত রাজার আর্বিভাব হয়। এই দু�রাজার মধ্যে প্রেম নিয়ে নানাবিধ বিরোধের সৃষ্টি হয়। প্রথম সেন্ট ভেলেন্টাইনকে দ্বিতীয় সেন্ট ভেলেন্টাইন ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্র�য়ারি নির্মমভাবে হত্যা করে। এ হত্যার অন্তরালে প্রধান চিহ্নিত কারণ ছিল তিনি এক সুন্দরী যুবতীর প্রেমে মগ্ন হয়ে রাজ্য পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছিলেন। প্রথম সেন্ট ভেলেন্টাইনকে হত্যার পর দ্বিতীয় সেন্ট ভেলেন্টাইন রাজ্যের সব ক্ষমতার অধিশ্বর হন। ক্ষমতার দাপটে সে রাজা তার রাজ্যে নিয়োজিত সব সৈনিকের কোন রমণীর সঙ্গে অম্লান, এমনকি বিবাহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। আরও ঘোষণা করা হয়, যে সৈনিক বিবাহে আগ্রহ প্রকাশ করবে তাকে তাৎক্ষণিক হত্যা করা হবে। সৈনিকদের প্রতি রাজার এরূপ অত্যাচার দেখে স্রষ্টার খুব করুণা হয় এবং আপন মহিমায় মহিমানি�ত করে বর্বর রাজা দ্বিতীয় সেন্ট ভেলেন্টাইনকে প্রেমে আশ্বস্ত করেন। তাদের এ প্রেম ১৪ ফেব্র�য়ারি বিবাহে রূপ লাভ করে।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানব হৃদয়ে প্রেম ও ভালবাসার ভূমিকা কতটা অপরিসীম! পরবর্তীতে তিনি সৈনিকদের ওপর থেকে প্রেম এবং বিবাহ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
করেন। ফলে সে দিনটিকে চির স্মরণীয় করে রাখার জন্য সেন্ট ভেলেন্টাইনের নামানুসারে ১৪ ফেব্র�য়ারিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে প্রথম পোপ জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্র�য়ারিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন। বিশ্বের প্রেমিক- প্রেমিকারা এ দিনের মর্মার্থ লালন করে গভীর আগ্রহে এবং আন্তরিকতায়। অনেকের উপলব্ধি, ভালবাসা দিবসে দু�জন দু�জনকে একান্তে কাছে পাওয়ার ইচ্ছেশক্তিকে প্রবল করে। পরস্পরের প্রতি ভালবাসার আকর্ষণে উদ্বুদ্ধ করার মনোবাসনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে ভালবাসা দিবস তথা ভেলেন্টাইন ডে।
তরুণ-ত
রুণীরা মনের মানুষের কাছে এ দিনটিতে প্রেম নিবেদন করে। প্রথম দিকে মনের কথা পাঠানো হতো তামার পাত বা কাঠের ফলকে খোদাই করে। ১৯৩৬ সাল থেকে কাগজের চিঠি বা প্রেমের কার্ড পাঠানোর রেওয়াজ শুরু হয়। রোমের ইএম ক্রুমক্রিয়াতিকে দেয়া হয় প্রথম ভালবাসার কার্ড।
ডিজিটাল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে ভালবাসার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো। মুঠোফান, এসএমএস ও ইন্টারনেট ভালবাসার মানুষটিকে কাছাকাছি নিয়ে আসার মাধ্যমে। উপহার হিসেবে দেয়া হয় নানা ধরনের গিফট। ফেব্র�য়ারি মাসের শুরু থেকেই পত্র-পত্রিকা তথা প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেক্ট্ররনিক মিডিয়ায় ভালবাসা দিবস সম্পর্কিত হরেক রকম লেখা, মতবাদ, স্মৃতিচারণ, নাটক, টক-শো প্রন�তি প্রকাশ এবং প্রচার করা হচ্ছে।undefined
ভালবাসা সার্বজনীন। ভালবাসা চিরন্তন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, সব প্রাণের মাঝে রয়েছে ভালবাসার ব্যাপ্তি। যে দিনটি ভরে থাকবে শুধু ভালবাসায়। আমাদের মনের সব হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে আমরা কি পারি না আমাদের সমগ্র হৃদয়কে ভালবাসায় ভরে রাখতে? শুধু একটি দিনই নয়। এ রকম ১৪ ফেব্র�য়ারি আমাদের জীবনের প্রতিটি পদে, প্রতিটি মুর্হূতে ফিরে ফিরে আসুক। অম্লান ভালবাসায় ভরে থাকুক আমাদের যান্ত্রিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ।