রায়পুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমিতে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে আরিফ হোসেন। স্কুলের পাশে উপজেলা পরিষদ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মাইকিংয়ের রিকশা চলাচল করে। মাইকের বিকট আওয়াজ থেকে রেহাই পেতে আরিফ কানে আঙুল দিয়ে রাখে। তার মতো রায়পুর পৌর শহরের বাসিন্দারা মাইকিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ। জানা গেছে, রায়পুরে ১৩ টি ক্লিনিক ও প্যাথলজি রয়েছে। এসব ক্লিনিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসক আসেন। তাঁদের আগমনের কথা বলে ক্লিনিক-প্যাথলজি ও ফার্মেসির মালিকেরা প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করান। মাসের পর মাস চলে এ মাইকিং। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তা ছাড়া মাইকের উচ্চ শব্দে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোস্তফা ফারুকি জানান, ক্লাস চলাকালে মাইকিংয়ের এর কারনে পাঠদান ব্যাহত হয়। এ জন্য ছাত্রছাত্রীদের মতো তারাও অতিষ্ঠ। বিষয়টি মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেননি। মানবাধিকার কর্মী ইসমাইল হোসেন বলেন, �ডাক্তারি হলো সেবামূলক পেশা। ডাক্তাররা কোনো পণ্য নন। অথচ পণ্যের মতো রায়পুরে তাঁদের আগমণে মাইকিং করা হয়। কেউ অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসার জন্য খোঁজখবর নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসবেনই। এতে মাইকিং করার প্রয়োজন কি? বিষয়টি লজ্জাজনক।� রায়পুর মাতৃছায়া হাসপাতালের সহ-প্রশাসক কাজল খান বলেন, �এভাবে মাইকিং করাতে আমাদের কাছেও খারাপ লাগে। প্রচারের জন্যই তা করা হয়। তবে আমি না করালেও অন্যরা মাইকিং করাবেই। এ জন্য সবাই মিলে বসে বিকল্প ব্যবস্থার বা সপ্তাহে একদিন শহরে মাইকিং করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।�
রায়পুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শরিফ বলেন, �আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। চিকিৎসকেরা এখন ফেরিওয়ালার মতো হয়ে গেছেন। এভাবে মাইকিং করিয়ে জনগণকে কষ্ট দেওয়া বিধিসম্মত নয়।� উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সুত্রধর জানান, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো ও মাইকিং সম্পূর্ণ নিষেধ। খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শরিফ বলেন, �আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। চিকিৎসকেরা এখন ফেরিওয়ালার মতো হয়ে গেছেন। এভাবে মাইকিং করিয়ে জনগণকে কষ্ট দেওয়া বিধিসম্মত নয়।� উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সুত্রধর জানান, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সামনে হর্ন বাজানো ও মাইকিং সম্পূর্ণ নিষেধ। খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
