হয় তত্ত্বাবধায়ক নয় সরকারের বিদায়: খালেদা


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ১৮ ফেব্রুয়ারি: নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, "বল এখন আপনাদের কোর্টে। তাই দায়িত্বও আপনাদের। যদি আমাদের দাবি মেনে নিয়ে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করা হয়, পরবর্তীতে এমন কর্মসূচি দেবো তাতে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেবেন-না হয় বিদায় নিতে হবে।"

শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় দেয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতার শুরুতেই তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, "নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। তা তত্ত্বাবধায়ক নামে হোক বা অন্য কোন নামে হোক।"

 তিনি বলেন, "কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন নয়।"শনিবার বিকেল পাঁচটার আগে বক্তব্য শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনীতি ও সমসাময়িক ‍অন্যান্য ইস্যুতেও নিয়েও কথা বলেন তিনি।খালেদা জিয়া বলেন, "তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করে সন্ত্রাসে। এ কারণেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য জেলায় জেলায় এক জন করে গডফাদার তারা পোষে।"তিনি বলেন, "এ লক্ষ্মীপুরেও তাদের একজন গডফাদার আছে। তার নাম তাহের। সে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে ১৭ টুকরা করেছিলো। সে হত্যাকাণ্ডের বিচারে তার দুই ছেলের সাজা হয়েছিলো। বর্তমান সরকার এসে সে সাজা মওকুফ করে দিয়েছে। এখন তারা দ্বিগুণ উৎসাহে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।"খালেদা জিয়া বলেন, "আমাদের পূর্ব ঘোষিত ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে আওয়ামী লীগের পেটোয়া ও পুলিশ বাহিনী বেপরোয়া গুলি চালিয়ে দুই কর্র্মীকে হত্যা করেছে। সরকার সে হত্যাকাণ্ডের বিচার তো করেইনি, উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।"তিনি বলেন, "খুনিরা দলীয় লোক বলে তাদের বিচার করেনি। কিন্তু এ এলাকার জনগণ এ কথা ভুলে যাবে না। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। এ সরকারের আমলে এর বিচার না হলেও আমরা ক্ষমতায় গেলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করবো।"উল্লেখ্য, বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ও আহতদের দেখতেই এই লক্ষ্মীপুর আসা। ওইদিন লক্ষ্মীপুরে বিএনপির গণমিছিলে পুলিশের গুলিতে দুই কর্মী নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।