রায়পুর প্রতিনিধি ঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের
প্রধান সড়ক দখল করে বসেছে হাট-বাজার। মুরগি, সবজিবাজার, মাছসহ বিভিন্ন
পণ্যের হাট বসছে এ রাস্তায়। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দেখা
দিয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। রায়পুর-হায়দরগঞ্জ ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন
স্থানে এ রকমই বসেছে হাট-বাজার।যাতায়াতের উপযোগী মহাসড়কের ওপর বসা
হাটগুলো হলো_ মিতালিবাজার, রায়পুর নতুনবাজার, হায়দরগঞ্জ, মাছহাটা,
বাংলাবাজার, এমপিবাজার, চমকাবাজার প্রভৃতি। এসব বাজারের মধ্যে হায়দরগঞ্জ
মোরগহাটার অবস্থা শোচনীয়। হায়দরগঞ্জ থেকে রায়পুর যাওয়ার এটি একমাত্র সড়ক
হওয়ায় চলাচলের জন্য এ সড়কের বিকল্প নেই। বাজার রাস্তার ওপর
লম্বালম্বিভাবে হওয়ায় রোব ও বুধবার হাটের দিনে বাজার পার হতে যাত্রীবাহী
পরিবহনের সময় লাগে ৪০ মিনিট। এ ব্যাপারে পথচারীরা জানান, রাস্তার ওপর
বাজার বসায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। দিন দিন
সড়কে বাড়ছে যানজট। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে চলেছে। যাত্রী বহনকারী
পরিবহনগুলোর গন্তব্যস্থলে পেঁৗছতে লাগছে দ্বিগুণ সময়।
স্থানীয় লোকজন জানান, হাটের দিন দূর থেকে আসা রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান,
পিকআপ, টেম্পো, সিএনজি, মোটরসাইকেল রাস্তার ওপর রাখা হয়। এতে যানজট
সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে হায়দরগঞ্জ মোরগহাটা বাজারের বাসিন্দা ডা. হারুন, মোঃ সিরাজ
মেকার জানান, হাটের দিন বাসার মধ্যে বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। স্কুল ও
কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। সে কারণে হাটের
দিন ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে
এলাকার শিক্ষার্থী স্বর্ণালি ও ইসরাত জাহান কেয়া জানায়, হাটের দিন তাদের
কলেজে যাওয়া বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষাগ্রহণ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে বলে
অভিযোগ। এ ছাড়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অথচ এ
সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। ১ নম্বর উত্তর
চরআবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও হায়দরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ
শহিদউল্লাহ বিএসসি বলেন, যত দ্রুতসম্ভব রাস্তার ওপর থেকে হাট-বাজার সরিয়ে
নেওয়া হবে। এ বাজার স্থানান্তরের জন্য ভালো কোনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।
জায়গা পাওয়া গেলে রাস্তার ওপর থেকে বাজার স্থানান্তর করা হবে।
রায়পুরে প্রধান সড়কে হাট, বাড়ছে দুর্ভোগ
