লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা ঃ লক্ষ্মীপুরে বিএনপির গণমিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত রুবেলের পরিবার উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা। নিহত রুবেলের কিছু দিন পর বিয়ে করার কথা ছিল। কিন' তা আর হলো না।বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার গণমিছিলে যোগ দিতে এসে পুলিশের গুলিতে রুবেল আহত হলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসাধীন অবস'ায় তিনি মারা যান। রুবেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমিয়েছেন। রুবেলের প্রতিবেশী আমেনা বেগম জানান, কিছু দিন পরই রুবেলের বিয়ের কথা ছিল। কিন' তা আর হলো না। রুবেলের মা জ্যোৎস্না বেগম ছেলের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। পাশের কামরায় রুবেলের বাবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাহার উদ্দিন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। তিনি কোনো কথারই জবাব দিচ্ছেন না। রুবেলের মাকে সান-্বনা দিচ্ছেন আরেক ছেলে রাকিব (১২) ও একমাত্র মেয়ে সুমী (১৫)। রুবেলের মার প্রশ্ন, আমার ছেলেকে কেন গুলি করা হলো, কী অপরাধ করেছে আমার রুবেল। এখন আমার সংসারের কী উপায় হইব। আমি কী নিয়ে বাঁচব। আমার সংসার কে দেখবে। এ খুনের বিচার কী হইব। তার নানা প্রশ্ন।
নিহত রুবেলের একমাত্র বোন সুমী এবার দাখিল পরীক্ষার্থী। সে জানায়, ভাইয়া আমাকে বলেছেন, বোন, ভালো করে লেখাপড়া করো, তাহলে তুই শিক্ষক হতে পারবি, আমার যত কষ্টই হোক তোর লেখাপড়ার খরচ আমি চালাব। বড় হয়ে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা ছিল সুমীর।
সুমীর প্রশ্ন, আমার লেখাপড়ার কী হবে, আমি কি আর লেখাপড়া করতে পারব না- এ বলেই সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ছোট ভাই রাকিব হোসেন (১২) অষ্টম শ্রেণী ও শাকিল হোসেন (১০) পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। তারা জানায়, ভাইয়া প্রতিদিন আমাদের স্কুলে যাওয়ার জন্য ১০ টাকা করে দিতেন। এখন আমাদের কে টাকা পয়সা দেবে। আমাদের লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে?
প্রতিবেশী মহিউদ্দিন বিটু জানান, দাদার দেয়া মাত্র দুই শতাংশ জমির ওপর দো-চালা একটি টিনের ঘরে রুবেলের পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া তাদের আর কোনো জায়গা-জমি নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পথে বসতে চলেছে পরিবারটি।
