রায়পুর ;লক্ষ্মীপুর : লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলায় নতুন বছরে শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী প্রদর্শণ করে
নিষিদ্ধ নোট-গাইড, গ্রামার,বাংলা ব্যাকরণসহ সহায়ক বই পাঠ্য করাকে
কেন্দ্র করে মরিয়া হয়ে উঠেছে বই ব্যবসায়ীরা। বইয়ের দোকানগুলোতে নিষিদ্ধ
সহায়ক বই বিক্রিতে রীতিমত প্রতিযোগীতা শুরুর খবর পাওয়া গেছে। বই ব্যবসায়ী
সিন্ডিকেটের প্রায় শতাধিক এজেন্ট প্রতিনিয়ত মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশি�ষ্টদের সাথে আপোষ রফা হলেই নিন্ম মানের বই গুলোকে
পাঠ্যভুক্ত করে নেওয়া হচ্ছে।
পাঠ্যভুক্ত অধিকাংশ বই গুলো নিন্ম মানের, অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ঠ লেখার কারনে
উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে শিক্ষক, অবিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এ সব বই কিনতে অনিহা
প্রকাশ করছে সচেতন অবিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তবুও শিক্ষার্থীদের এসব বই
কিনতে বাধ্য করারও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র মতে রায়পুর উপজেলা ব্যাপী ২৯ টি মাধ্যমিক ও ২০ টি মাদ্রাসাকে ঘিরে
গড়ে উঠেছে বই সিন্ডিকেট। তাদের এজেন্টরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ব
স্ব ব্যান্ডের বই পাঠ্যভুক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং
কমিটির প্রভাবশালী সদস্যদের নগদ অর্থ, উপটৌকন সহ নানা ভাবে সমঝোতার
মাধ্যমে বই গুলোকে পাঠ্য করে থাকে। এ ত্রিমুখী সিন্ডিকেটের শীকার হয়ে
অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিন্ম মানের সহায়ক বই পাঠ্যভুক্ত হচ্ছে।
পাঠ্যকৃত এ সব বইয়ের চড়া দাম হওয়ায় বিপাকে পড়ছে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা।
পাঠ্যভুক্ত বই না কেনার ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম থেকে বের করে দেওয়ার
অভিযোগও শোনা যায়। সরকার প্রথম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত
বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরনের ফলে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের মাঝে যে
স্বস্থি এসেছিল; অসাধু সিন্ডিকেটের ফলে তাহা শেষ হতে চলছে।সূত্রে মতে
চলমান শিক্ষাবর্ষকে টার্গেট করে স্থানীয় লাইব্রেরীগুলো নিষিদ্ধ নোট-গাইড,
গ্রামার,বাংলা ব্যাকরণ সহ সহায়ক বইয়ের বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে। কখনো
প্রকাশ্যে কখনো গোপনে গড়ে তোলা মজুদ থেকে উপজেলা ব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া
হচ্ছে নিষিদ্ধ সহায়ক বই। রায়পুরের বই ব্যবসাকে ঘিরে পৌর শহরের ভাই ভাই
লাইব্রেরী,আশ্রাফিয়া লাইব্রেরী,আর বি শো রুম,আল আমিন লাইব্রেরী, চৌধুরী
বুক হাউজ, খন্দকার ট্রেডার্স সহ বিভিন্ন বই ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে
উঠেছে বই সিন্ডিকেঠ চক্র
গত নভেম্বরে জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রজ
গোপাল ভৌমিক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এন সি টি বি অনুমোদন বিহীন সকল
সহায়ক বই উৎপাদন, মজুদ, বিক্রয় সহ সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও আইন
অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকল জেলা প্রশাসক
ও ইউ এন ও দের নির্দেষ দেওয়া হলেও আদৌ এ উপজেলার বই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে
কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। জনশ্র�তি রয়েছে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের
ম্যানেজ করে দিনের পর দিন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূইয়া জানান, এন
নি টি বি অনুমোদন বিহীন বই পাঠ্য না করার ব্যাপারে সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে
চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বক্ষণিক
মনিটরিং করা হচ্ছে।
নিষিদ্ধ গাইড ও সহায়ক বই পাঠ্যভুক্ত করার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানের
বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিষিদ্ধ নোট-গাইড বইয়ে বাজার সয়লাব
