রায়পুরে বিভক্ত যুবলীগ পাল্টাপাল্টি কমিটি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা যুবলীগের দ্বিধাবিভক্তি ও দ্বন্দ্ব প্রকট
আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করছে উভয় পক্ষ।
সাংগঠনিক কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে আলাদাভাবে। সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে,
সভাপতি আলমগীর হোসেন মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান খানের
নেতৃত্বে ২০০৪ সাল থেকে উপজেলা যুবলীগের কার্যক্রম চলছিল। গত বছরের ৩০
এপ্রিল হঠাৎ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক
সৈয়দ আহাম্মদ পাটওয়ারী রায়পুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।
আহ্বায়ক করা হয় কামরুল হাসান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মো. আরিফুর রহমান
ও বায়োজিদ ভূঁইয়াকে। আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে বিভক্ত হয়ে পড়েন
উপজেলা যুবলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তখন থেকে দুই পক্ষ পৃথকভাবে
সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ
প্রত্যাবর্তন দিবসেও দুই পক্ষ আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে। জানা গেছে,
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান গত
৩০ ডিসেম্বর উপজেলার উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নে সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
করেন। ২৫ সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো.
মশিউর রহমান। একই দিনে একই ইউনিয়নে পৃথক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন উপজেলা
যুবলীগের আহ্বায়ক দাবিদার কামরুল হাসান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান। ৩১
সদস্যের কমিটিতে কৌশিক আহাম্মেদ আহ্বায়ক ও পলিন হাওলাদার যুগ্ম আহ্বায়ক।
এ ছাড়া কামরুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুবলীগ গত ৯ জানুয়ারি দক্ষিণ চরআবাবিল
ইউনিয়নে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। এতে আলমগীর হোসেন আহ্বায়ক ও আক্তার
হোসেন ফরিদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এরপর গত ১৩ জানুয়ারি চরমোহনা ইউনিয়নে
সুমন হোসেনকে আহ্বায়ক ও আলাউদ্দিন পাটওয়ারীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২৫
সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন কামরুল হাসান।প্রায় এক মাস আগে চরমোহনা
ইউনিয়নে মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীর আলমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৩১
সদস্যের কমিটি গঠন করে উপজেলার যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষ। এ
ছাড়া কাল সোমবার দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে তাঁরা
জানিয়েছেন। পাল্টাপাল্টি কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের
সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান বলেন, 'বিভিন্ন ইউনিয়নে আমরা যে কমিটি
ঘোষণা করছি, সেগুলোই কেবল বৈধ কমিটি।'সফিকুর রহমান আরও বলেন, 'জেলা
যুবলীগের আহ্বায়ক ও একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নিজেদের খামখেয়ালিমতো উপজেলা
যুবলীগের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয়
নেতারাও ক্ষুব্ধ হন। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের নির্দেশ দেন সংগঠনের
কার্যক্রম চালিয়ে যেতে।'যোগাযোগ করা হলে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল
হাসান বলেন, 'আমার নেতৃত্বে উপজেলা যুবলীগ এগিয়ে চলছে। আমরা ইউনিয়নে
ইউনিয়নে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করছি।
আলমগীর-সফিক খানের কমিটি অবৈধ। ওই কমিটির নেতারা অবৈধভাবে রায়পুরে বসে
ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করে ঘোলাটে অবস্থার সৃষ্টি করছে।'উপজেলা যুবলীগের
বিভক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন,
তাঁদের গঠন করা কমিটিই বৈধ। আগের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এ
জন্য ওই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।