Home »
রায়পুর উপজেলা
» ইলিশের হাট ক্রেতাশূন্য
আতোয়ার রহমান মনির-: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইলিশের হাট ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞায় মৎস্য শিকার, মেঘনাপাড়ে মধ্যরাত থেকে কম দামে ইলিশ ক্রয়সহ লবণ ও বরফ দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ করে রাখার জন্য বর্তমান বাজারে ইলিশের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় দেখা মিলছে না ক্রেতাদের। মৎস্য ব্যবসায়ীরা আড়ত থেকে মাছ ক্রয় করে ইলিশের ক্রেতাশূন্য হাটে বসে থাকছেন। জানা গেছে, গত ৬ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে ইলিশ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় অসাধু মৎস্য শিকারিরা তা মানেনি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা প্রতিদিনই মেঘনা নদী থেকে মাছ শিকার করে রাতের আঁধারে মেঘনাপাড়েই হাট বসিয়ে বিক্রি করেছিলেন। ক্রেতারা কম দামে মা ইলিশ কিনে বাড়িতে লবণ ও বরফ দিয়ে মজুদ করে। টানা ১১ দিনের পর এখনও বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট লক্ষ্য করা গেছে। রায়পুর বাজারের উপস্থিত ক্রেতা পৌর শহরের নতুনবাজারের বাসিন্দা শিক্ষক তাছলিমা আক্তার সেফালী বলেন, 'অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীরা ইলিশ মাছ বরফ দিয়ে রাখেন। এখন তা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে আমাদের আকৃষ্ট করছেন। আমি সচেতন হয়ে সে মাছ ক্রয়ে অনীহা দেখাই। তাই মাছ ক্রয় না করেই বাজার থেকে খালি থলে নিয়ে ফিরছি।' স্থানীয় এক নেতা জানান, '১১ দিনের নিষেধাজ্ঞায় আমি মেঘনাপাড়ের গোলগোলা ও জালিয়ারচর_ এ দুটি মাছঘাটে যাই। গিয়ে বড় ইলিশ দেখি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা করে ।' তিনি বলেন, 'ডাক থেকে তিন হালি ক্রয় করলেও আড়তদার আমাদের ২ নম্বর ইউনিয়নের দলীয় লিডার হওয়ায় পরদিন ২ বস্তা মাছ পাঠান আমার বাসায়। এ জন্য নতুন করে আর ইলিশ কিনতে হচ্ছে না।' চরবংশী গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, 'আমি এবার ভালো কাজ করেছি। হাতে টাকা ছিল। তাই ৪৮ হাজার টাকায় বাজার থেকে ডিপ ফ্রিজ ক্রয় করে আনি। ওই ফ্রিজে মেঘনাপাড়ে হাট থেকে ইলিশ ক্রয় করে ভর্তি করে রাখি। নতুন করে মাছ কেনা তো লাগবেই না, বরং এ মাছ ২ বছর ধরে খাওয়া যাবে।' মেঘনা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী জয়ধর মাঝি রায়পুর হাটে মাছ বিক্রি করতে এসে ক্রেতাশূন্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে নদীতে কিংবা আড়তে মাছ কিনতে যাইনি। এখন অভিযান নেই। তাই মাছ ক্রয় করে বিক্রির জন্য ডালাভর্তি এক হাজার ৬০০ টাকা হালি বড় ইলিশ ক্রয় করে আনি। ক্রেতাশূন্য থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছি।' গোলগোলা ও জালিয়ারচরের আড়তদার জানান, তারা অভিযানের সময় মাছ ক্রয় ও বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে বিশেষ ব্যক্তিদের অনুরোধ কোনো ঝামেলা হবে না সে সুবাদে আড়ত চালু রেখেছিলেন। থানায় বিট, রাজনৈতিকসহ প্রশাসনের কর্মকতাদের বাসায় মাছ বিতরণে কমিশন হিসেবে কিছুই থাকেনি বলে দাবি করেন ওই আড়ত মালিক। এখন অভিযান নেই। আবার ক্রেতাও নেই বাজারে। নদী থেকে জেলেরা ইলিশ ধরে আনে। কিন্তু পাইকাররা বাজারে ক্রেতাশূন্য দেখে মাছ ক্রয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। মেঘনা নদীতে মাছ ধরা জেলে আলমগীর মাঝি, রফিজল মাঝি, হেদায়েত লস্কর, আরজু মোল্লা, সবুজ দেওয়ান ও নুর ইসলাম ফেদা বলেন, '১১ দিনের অভিযানে আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। এদিকে অভিযান শেষ হলে ১৭ অক্টোবর রাতে মাছ ধরে এনে আড়তে বিক্রি করি।' ১১ দিনের দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করে জেলেরা বলেন, 'মেঘনাবক্ষে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় আমাদের জেলে পরিবারের দিন কেটেছে অনাহার-অর্ধাহারে। ঘাড়ে চেপেছে মহাজনদের ঋণের বোঝা।' উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকার জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণের প্রয়োজনে ৬ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিন সারাদেশে মা ও জাটকা ইলিশ শিকার এবং বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে।সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে রায়পুর উপজেলা প্রশাসন জেলেদের ইলিশ শিকার বন্ধের নির্দেশ দেয়। এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, 'আমরা অভিযান চালিয়ে যা পাইছি তা ধ্বংস করেছি। আপনারাই তো পেপার-পত্রিকায় লিখেছেন।' তবে ইলিশের হাটে ক্রেতাশূন্য সম্পর্কে তিনি বলেন, '১১ দিনের নিষেধাজ্ঞায় চুরি করে মৎস্য শিকারি ও পাইকাররা যা করেছে তারই ফল বর্তমানে ভোগ করছে। এখন আমাদের করার কিছু নেই।'