মিটার বিহীন কুদরতি আলো || সংযোগের আড়ালে অবৈধ সংযোগ

আরএনএন:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পলী বিদুতের মিটার বিহীন অবৈধ সংযোগে জ্বলে উঠছে কুদরতি আলো। উপজেলায় পলী বিদ্যুতের বৈধ ২৪হাজার সংযোগের আড়ালে ঘটছে অবৈধ সংযোগ।
এদিকে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের সয়লাভে অব্যাহত লোড সেডিং ও লোভোল্টেজ ব্যাহত হচ্ছে মানুষ সেবাসহ অর্থনৈতিক আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম।
পলী বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ এর বৃদ্ধিসহ লোভোল্টেজের ফলে ফ্রিজ, মটর, রায়পুর হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, অফিস ও বাসা বাড়ীর ফ্যান নষ্ট হয়ে যাওয়া সহ পৌরসভার জলদ্ধার পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলনসহ শতাধিক চাল কল থেমে থেমে বন্ধ  হয়ে যায়।
লো ভোল্টেজের ফলে প্রতিনিয়ত কলকারখানাসহ বিদ্যুৎ সংশিষ্ট শ্রমিকরা শ্রমিকরা হয়ে পড়েছে বেকার। আবাসিক বাড়ী ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার, পাংগাসিয়া গ্রাম, গজারিয়া গ্রাম, খাসের হার্ট বাজার, মিতালী বাজারসহ কয়েকটি হার্ট বাজারে রয়েছে একমিটার থেকে শতাধিক সংযোগ দেওয়া হয়েছে। জুলে রয়েছে অবৈধ সংযোগের তার। বিদ্যুতের লাইনম্যানদের কথায় এ তার জেনারেটরের বলে দাবি।
অবৈধ সংযোগে ফেক্সিবল নিন্মমানের তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় ঐ গ্রামগুলোর মানুষ চলাফেরায় মৃত্যুর ঝুকিতে আটকা রয় মৃত্যু ফাঁদে। যে কোন মুহুর্তেই অবৈধ সংযোগে জড়িয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা যেতে পারে এভয়কে তোয়াক্কা না করে ঘরকে আলোকিত করতে বেচে নেয় অবৈধ সংযোগ।
উপজেলা পাংগাসিয়া গ্রামের দেলোওয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ লাইনম্যানদের অনুরোধে আমার মিটার থেকে ৫’শ গজের একটি সংযোগ প্রদান করি। এটা বৈধ কিনা অবৈধ জানিনা যা জানে বিদ্যুৎ লাইনম্যানরা তা ভাল জানেন। অবৈধ সংযোগকারী নাম প্রকাশ শর্তে বলেন, কি করব? নতুন করে বৈধ সংযোগ না দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে লাইনম্যানদের মাশওয়ারা দিয়ে দ্রি্যুৎ সংযোগ নিই। ধরা পড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংযোগ কর্তনের আগে ও বিদ্যুতের বড় অফিসার আসলে লাইনম্যানরা আমাদেরকে অবহিত করেন। এর ফলে বৈধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে লোড সেডিং সহ লো ভোল্টেজের বিদ্যুৎ বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। রায়পুর পৌর সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকায় প্রায় বিশ হাজার মানুষের প্রতিনিদিন ১৫লাখ লিটার পানির চাহিদা রয়েছে বিদ্যুৎকে ঘিরে। পাম্প দিয়ে উচ্চ জ্বলদ্ধারে পানি উত্তোলন করতে হলে দৈনিক ১৪/১৫ঘন্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। রায়পুরে অবৈধ সংযোগ ও লোড সেডিংয়ের কারণে ৯/১০ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এতে উচ্চ জ্বলদ্ধার মাত্র ৭/৮লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ সম্পৃক্ততায় ছোট-বড় হাট বাজারে শতাধিক চাল কল নির্ভরশীল থাকলেও লো ভোল্টেজের কারণে বন্ধ রয়েছে। এসব চাল কল থেকে প্রতিদিন গড়ে অর্ধ লাখ চাল উৎপাদন করা হতো। বিদ্যুৎ সংকটে এসব চাল কল বিদ্যুৎ বিল দিয়েও লোকসানের লো ভোল্টেজের কারণে বন্ধ রাখতে হয়েছে। রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজারের বাসিন্দা শিীকা তাছলিমা আক্তার সেফালী বলেন, একবেলা ভাত না খেয়ে থাকা যায় কিন্তু পানি ছাড়া থাকা যায় না। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজে বাসায় পানি সমস্যাসহ বিকল হয়ে যায় আমার ফ্রিজটি।
হায়দরগঞ্জ বাজারের হাজী বয়লারের চাল কল মালিক মনির হোসেন বলেন বিদ্যুতের সমস্যায় চাল কল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করে, হায়দরগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট্য ব্যাবসায়ী বলেন, পলী বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগে চেয়ে গেছে হায়দরগঞ্জ বাজার। অবৈধ সংযোগে দু দু’বার অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত ঘটলেও তা তোয়াক্কা না করে পলী বিদ্যুতের লাইনম্যান একটি মিটার থেকে একাধিক সংযোগ প্রদান করে মাশোহারা গুনছেন।
উদমারা গ্রামের সেফালী বেগম জানান, চরপী গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকলেও বাতি জ্বলে। আলাহর কুদরত মিটার নেই তবুও আলো জ্বলে ঘরে ঘরে। মাঝে মধ্যে দেখি জেনারেটর দিনের বেলায় না চললেও শুক্রবার বিশেষ কুদরতে এগ্রামে টেলিভিশনের ছবি দেখা যায়। এটা বৈধ কিনা অবৈধ জানিনা।
রায়পুর হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, লো ভোল্টেজে হাসপাতালে পানি সরবরাহ সহ এক্সরে মেশিন বিকলের সম্ভাবনা রয়েছে। লোড সেডিংয়ে অনেক ইমার্জেন্সি রোগীকেও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর চাল উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় আরো দুই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও পলী বিদ্যুতের উদাসীনতাসহ অবৈধ সংযোগ প্রদান করে বেশি গ্রাহক সৃষ্টি করায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ।
এব্যাপারে রায়পুর পলী বিদ্যুতের এজি এম (নিপর) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ২৪হাজার বৈধ সংযোগ রয়েছে। অচিরেই অবৈধ সংযোগ বিচিছন্ন করার জন্য ব্যাবস্থা নিচ্ছি। এক মিটার থেকে একাধিক সংযোগে লো ভোল্টেজ হয় না। তিনি বলেন, জাতীয় গ্রীড হতে ইনকামিং লোড কম হওয়ায় লো ভোল্টেজে সমস্যা হচ্ছে।