লক্ষ্মীপুরে নতুন শিল্প স্থাপনে প্রধান অন্তরায় গ্যাস বিদ্যুৎ

লক্ষ্মীপুর সদর সংবাদদাতাঃ
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট সমস্যার কারণে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্প নগরীতে শিল্পকারখানা চালু করতে পারছে না শিল্প-উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ দিনেও সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় অনেক শিল্প উদ্যোক্তা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে।
অনেকেই প্লট বরাদ্ধ নিয়ে ফেলে রেখেছে আবার অনেকেই অবকাঠামো তৈরি করেও গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে শিল্পকারখানা চালু করতে পারছেন না। ফলে এ নগরীর পরিত্যক্ত শিল্প প্লটগুলো গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিসিক শিল্প নগরীটি পুরোপুরি চালু হলে এ জেলার কয়েক হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অসামান্য অবদান রাখতে সম হবে। জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর গ্রামে লক্ষ্মীপুর -চাঁদপুর সড়কের পাশে ১৬ একর জমির ওপর ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০টি প্লটবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শুরু হয়। বিগত ২০০৪ সালে এ নগরীর কাজ সম্পন্ন হয়। এ পর্যন্ত নগরীর ৮৬টি প্লটে ৪৫টি শিল্পকারখানার বিপরীতে বরাদ্ধ দেয়া হয়। বর্তমানে ১৪টি প্লট বরাদ্ধের অপোয় রয়েছে। ৪৫টি শিল্পকারখানার মধ্যে বর্তমানে ৪টি বিস্কুট ফ্যাক্টরি, একটি রাইসমিল একটি ছিড়ার মিলসহ ১২টি কারখানা চালু হলেও অবশিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করা হয়নি।
লক্ষ্মীপুর শিল্প নগরী কর্মকর্তা অরবিন্দ দাস জানান, এ নগরীতে গ্যাসসংযোগ না পাওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগে বিড়ম্বনা ছাড়াও ভয়াবহ লোডশেডিং এবং অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ গড়ে তুলতে না পারা এবং মাদার ড্রেন চালু না হওয়া এ নগরীর অন্যতম প্রধান প্রধান সমস্যা। সমস্যাগুলোর জন্য অনেক নামিদামি কোম্পানি এ নগরীতে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হলেও তারা শিল্প স্থাপন করতে পারছে না। তিনি আরো জানান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে এ নগরীতে দ্রুত শিল্প স্থাপিত হবে এবং কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান করা যাবে।
লক্ষ্মীপুর শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি ও নিরাপদ ফুডস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম জানান, গ্যাস- বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেন ছাড়াও এ নগরীতে শিল্প স্থাপনে আরো একটি প্রধান সমস্যা হলো এ জেলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে আগ্রহী না হওয়া। তিনি জানান, সমস্যাগুলো দূর করা গেলে এ নগরীতে স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর অনেক শিল্প স্থাপন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে, প্রত্য এবং পরোভাবে জেলার কয়েক হাজার বেকারের কর্মসংস্থান হবে। তিনি এ সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য কর্তৃপরে হস্তপে কামনা করেন।