রায়পুরে বাঁশের চাঁইয়ের ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার

আরএনএন ডেস্কঃ নদীমাতৃক দেশের হাওড়-বাওড়,খাল-বিল,ডোবা হল দেশী প্রজাতি মাছের অভয়ারণ্য লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলাকে ঘিরে। এই বর্ষা মৌসুমে ফসলী জমিতে এসে এ সকল দেশী      প্রজাতির মা-মাছ রেণু ছাড়ে। রেণু ছাড়ার পর পরই নির্মমভাবে ধরা পড়ছে মৎস্য শিকারীর হাতে। ফলে বিলুপ্তী হতে চলেছে গ্রাম-বাংলার সেই চির চেনা এবং সুস্বাদ শিং, মাগুর , কই ,বাইন ,শোল- গজার,টাকী ,পুটি-টেংরা , ভেদা-বেলে,ভেটকী-বোয়াল, পাবদা , চিতলসহ প্রায় বিশ প্রজাতির মাছ।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বর্ষা মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে এক শ্রেনির অসাধু মৎস শিকারীরা কারেন্ট জাল ও বাশের তৈরী চাঁই পেতে মাছের রেণু থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা সব ধরনের মাছ শিকার করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফসলী জমিতে যেখানে পানি আছে সেখানেই নেট জাল ও বাশের চাঁই পাতানোর প্রতিযোগিতা চলছে। এসব চাঁইয়ের ফাঁদের ফাঁসগুলো অত্যান্ত ঘন হওয়ায় ভিতরে কোন মাছ একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না। বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে সারি সারি এসব মৎস নিধন চাঁইয়ের ফাঁদে পড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে ডিমওয়ালা মা-মাছ মারা পড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট আরো তীব্র হয়েছে।
বর্তমানে সব জিনিষের দাহিদার পাশাপাশি মাছের চাহিদাও কম নয়। মাছ হলেই ৫০ টাকা ভাগা। বর্ষা মৌসুমে গ্রাম-গঞ্জের মানুষের হাতে তেমন কোন কাজ না থাকায় তারা বাজার থেকে কারেন্ট জাল এবং বাঁশের তৈরী চাঁই এবং ছোট ছোট বুড্ডি নৌকা কিনে মৎস শিকারীর পেশায় নেমে পড়েছে। মাছের ভাল দাম পাওয়াতে অনেকেই লোভের বসে এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এরুপ মৎস শিকারী চরবংশী  গ্রামের ফারুক ও বাদশা গাজী, দিন-রাতে মৎস শিকার করে সকালে ও বিকালে বাজারে মাছ বিক্রি করে প্রায় ৫/৭ শত টাকা আয় হয়। তাছাড়াও বাড়িতে বাড়তি মাছ কেনার প্রয়োজন হয় না তাদের।
 প্রশাসনিক কোন তৎপরতা না থাকায় দিন দিন মাছ ধরার প্রবণতা ও শিকারীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রায়পুর উপজেলার ২৬ টি হাট বাজারে  প্রকাশ্যে কারেন্ট জাল,নেট জাল, বাঁশের তৈরী,বানা, বিক্রি হচ্ছে। সেই সাথে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পোনা মাছ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বেলাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, কারেন্ট জাল বিক্রেতারা প্রকাশ্যে নয়। তবে তারা ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকলে ও সংঘবদ্ধচক্র অভিযানের মাধ্যমে  র আইনের নিকট সোপদ্ধ করা হবে।