দাদন ও কিস্তি শোধের চিন্তায় দিশেহারা জেলেরা

আরএনএন ডেক্স: মেঘনায় ইলিশের আকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার জেলে পরিবারগুলোর ঈদ কেটেছে হতাশায়। জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় মহাজনের দাদন, এনজিওর কিস্তি নিয়ে এসব জেলে দিশেহারা। জেলেপল্লী নাইয়াপাড়া ও হাজিমারা ঘুরে দেখা গেছে, আড়তগুলোতে ইলিশের কেনাবেচা নেই। জেলেরা নদীতে জাল ফেললেও দিন শেষে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন। যে দু'একটি মাছ ধরা পড়ছে, তা বিক্রি করে ট্রলারের জ্বালানি খরচও উঠছে না।
জেলে সিরাজুল ইসলাম জানান, নদীতে মাছ না থাকায় তাদের গ্রামে এবার ঈদের কোনো আমেজই ছিল না। অধিকাংশ জেলে পরিবারে সামান্য সেমাইও রান্না হয়নি।
আড়তদার মফিজুর রহমান ও আলতাফ হোসেন জানান, বৈশাখের শুরু থেকে সাধারণত মেঘনায় ইলিশ ধরা পড়ে। অথচ চার মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও ইলিশের দেখা নেই। মাছের ঘাটগুলো থেকে প্রতি বছর এ সময় প্রায় ১০০ টন ইলিশ দেশের বিভিন্ন বাজারে রফতানি হয়। অথচ চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ১০ টন ইলিশও রফতানি হয়নি। দক্ষিণ চরবংশী এলাকার জেলে সেলিম মাঝি বলেন, 'এ বৎসর নদীত মাছ নাই। আঙ্গো (আমাদের) অন খারাপ সময়। কন তো হামরা অন কী খামু? মনে অয় আঙ্গো গেরামে দুর্ভিক্ষ লাগছে।'
রায়পুর খাসেরহাট মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারী বলেন, জেলেদের জালে ইলিশ ধরাই পড়ছে না। এতে জেলেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। নদীতে মাছ না থাকায় এবার জেলেদের ঈদও করা হলো না।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণাকেন্দ্র চাঁদপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান জানান, ইলিশ দলবেঁধে চলে। নদীতে যত্রতত্র ডুবোচর, পানিদূষণ ও কারেন্ট জাল থাকায় ইলিশের ঝাঁক অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কোনো মোহনায় চলে যাচ্ছে। তাই মেঘনায় আর আগের মতো ইলিশ নেই।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন পাটোয়ারী জানান, মেঘনায় আগের মতো ইলিশ না থাকায় রায়পুরের জেলেরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। জেলেপল্লীতে হতাশা নেমে এসেছে।